‘নাটোর জেলা’ বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের একটি ছোট্ট জেলা নাটোর, যা বনলতা সেনের নাটোর নামে খ্যাত। গত ১৮ই জুলাই হতে ৩৬জুলাই (৫ই আগষ্ট) পর্যন্ত নানাভাবে সাধারণ ছাত্র রা সহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগদান করেন। দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে কৃষক থেকে ড্রাইভার পর্যন্ত নাটোরের রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারি ছাত্র রা বলেন “কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সাথে আমাদের তেমন ভাবে যোগাযোগ হয়নি শুধুমাত্র দেশপ্রেম থেকে মাঠে নেমেছি,যদি তাদের সরাসরি উৎসাহ মুলক নির্দেশনা পেতাম তাহলে গুটি কয়েক ছাত্র নিয়ে আন্দোলনটা ব্যাপক আকারে করতে পারতাম”।
নাটোরের সাধারণ ছাত্ররা জানান,দেশের নানান নিউজ সামনে আসে কিন্তু আমাদের আত্মত্যাগের নিউজ সামনে আসে না। তারা আক্ষেপ করে আরো বলেন, নাটোরে স্বৈরশাসক এমন ভয়ংকর পদক্ষেপ নিচ্ছে যে পদক্ষেপের সামনাসামনি হওয়া আমাদের গুটি কয়েক মিছিল নিয়ে সম্ভব না।
তারা জানিয়েছেন নাটোর স্টুডেন্ট এফেয়ার্স ছাত্র আন্দোলনে দেশ স্বাধীনে তাদের সকল কার্যকরী ভুমিকা রেখেছিল। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে অনেক ছাত্র সহ সাধারণ মানুষরাও গুলিবিদ্ধ হন। এমন হতাহতের ঘটনা আন্দোলনকারীদের মনে বিষদ আকারে ক্ষোভ বিস্তার করে।
‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাটোরে’র পক্ষ থেকে খোজ নিয়ে ছাত্র সহ সাধারণ জনগন ও বিভিন্ন পেশার এ পর্যন্ত ২৩ জন হতাহতের তালিকা প্রকাশ করেছেন। নাটোর স্টুডেন্ট এফেয়ার্সের পক্ষ থেকে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহন করার কথাও জানিয়েছেন। বলা হয়েছে এ আহতের তালিকা আরো বাড়বে।
গত ৩৬শে জুলাই(৫ই আগষ্ট) দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীনের পরে কিছু পলাতক দুষ্কৃতকারী বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়। সেই ব্যবসার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে কিছুটা আর্থিক সহায়তা করেছে নাটোর স্টুডেন্ট এফেয়ার্স।
ছাত্ররা জানান “ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে রাস্তা পরিষ্কার সবকিছু আমরা করে নিজের মাটিকে পরিষ্কার রাখার শপথ গ্রহন করছি” তারা আরো জানান, দেশে অন্যায় রুখে দিতে সকলকে এগিয়ে এসে একসাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহব্বান জানান দেশবাসির কাছে।
গত ১৬ই আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল শহীদদের স্বরণে নাটোরের শিক্ষার্থীরা নবাব সিরাজুদ্দৌলা কলেজ শহীদ মিনারে সন্ধ্যা ৬ টায় মোমবাতি প্রজ্বলন করেন।